আম চাষের পদ্ধতি, সার ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যা

১.⁠ ⁠উপযুক্ত জলবায়ু ও মাটি

আম চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু সবচেয়ে উপযোগী।

# মাটি: সুনিষ্কাশিত দোআঁশ মাটি উত্তম
# pH মাত্রা: ৫.৫–৭.৫ হলে গাছ ভালো পুষ্টি পায়।
# তাপমাত্রা: ২৪°C–৩০°C আম গাছের বৃদ্ধির জন্য আদর্শ।

২.⁠ ⁠জাত নির্বাচন

ভালো ফলনের জন্য উপযুক্ত জাত নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
#উন্নত জাতসমূহ:
গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, ল্যাংড়া, হিমসাগর (ক্ষীরসাপাত), ফজলি, আশ্বিনা,
বারি আম–৪, আম্রপালি (বারি আম–৩), কাটিমন, বারি–৮, বারি–৯, বাউ–৩, বাউ–৯

৩.⁠ ⁠বাগান তৈরি ও রোপণ পদ্ধতি

রোপণের সময়: জুন–সেপ্টেম্বর (বর্ষাকাল)
#দূরত্ব:
প্রচলিত পদ্ধতি: ১০ × ১০ মিটার
High Density Planting: ৫ × ৫ মিটার বা কম

🌿 গর্ত তৈরি ও সার প্রয়োগ
গর্তের মাপ: ৬০ × ৬০ × ৬০ সেমি
প্রতি গর্তে—
গোবর সার: ২২ কেজি
👉ইউরিয়া: ১৫০ গ্রাম
👉টিএসপি: ৫৫০ গ্রাম
👉এমওপি: ৩০০ গ্রাম
👉জিপসাম: ৩০০ গ্রাম
👉জিংক সালফেট: ৬০ গ্রাম

৪.⁠ ⁠সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা

🌳 পূর্ণবয়স্ক ফলন্ত গাছের জন্য (বার্ষিক)
👉গোবর: ৫০ কেজি
👉ইউরিয়া: ২ কেজি
👉টিএসপি: ১ কেজি
👉এমওপি: ৫০০ গ্রাম
👉জিপসাম: ৫০০ গ্রাম
👉জিংক সালফেট: ২৫ গ্রাম

💧 সেচ ব্যবস্থাপনা
চারা গাছে ঘন ঘন সেচ দিতে হবে।
মুকুল আসার ৩ মাস আগে সেচ বন্ধ রাখতে হবে।
মুকুল ফোটার শেষ পর্যায়ে একবার সেচ দিতে হবে।
জমিতে জলাবদ্ধতা বা অতিরিক্ত খরা যেন না হয়।

  • হপার ও বিছা পোকা

    সাইপারমেথ্রিন / ডায়মেথোয়েট
    (রেলথ্রিন, মর্টার, টাফগর) → ১ গ্রাম/লিটার

  • ফল ছিদ্রকারী পোকা

    এমামেকটিন বেনজয়েট / স্পিনোসিড
    (প্রোক্লেম, শার্পার, ট্রেসার) → ১ মিলি/লিটার

  • ফলের মাছি পোকা

    প্রোফেনোফস + সাইপারমেথ্রিন
    (সবিক্রন, রেলোথ্রিন) → ১ গ্রাম/লিটার, ২–৩ বার

  • পাতা কাটা পোকা (উইভিল)

    কার্টাপ গ্রুপ (গ্রিপ) → ১ গ্রাম/লিটার, ২–৩ বার

  • পাতার গল মাছি

    ইমিডাক্লোপ্রিড
    (ইমিটাফ, টিডো, জাদীদ) → ১ গ্রাম/লিটার

  • ফ্রুট ব্যাগিং

    মার্বেল আকৃতির ফল হলে কাগজের ব্যাগ দিয়ে ঢেকে দিলে পোকামাকড় কমে ও ফলের রঙ সুন্দর হয় (পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি)

  • ফেরোমন টোপ

    এটি একটি কার্যকরী এবং পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি যেখানে মিথাইল ইউজেনল থাকে যা ব্যাক্ট্রো -ডি নামে বাজার জাত করা হয়েছে।

1 of 7
  • এনথ্রাকনোজ (পঁচাড়ি)

    রিডোমিল গোল্ড, ইন্ডোফিল, ম্যানকোজেব
    → ২ গ্রাম/লিটার, ২–৩ বার

  • পাউডারি মিলডিউ

    থিওভিট / কুমুলাস → ৪ গ্রাম/লিটার
    অথবা টিল্ট (প্রপিকোনাজল) → ১ গ্রাম/লিটার

  • কালো মাথা ও ফল ফাটা

    সলুবোর (বোরন) → ১.৫ গ্রাম/লিটার, ১৫ দিন পরপর

  • আগা মরা রোগ

    কপার অক্সিক্লোরাইড (ব্লিটক্স) বা কার্বেনডাজিম (বেন্ডাজিম)

  • ব্যাকটেরিয়াল ক্যানকার

    স্ট্রেপ্টোমাইসিন
    (প্লান্টোমাইসিন, বাহা) → ২ গ্রাম/লিটার

1 of 5

আমের রোগবালাই দমনে ব্যবহার করুন

৭.⁠ ⁠পিজিআর (PGR – Plant Growth Regulator)

👉ফল বৃদ্ধি ও ঝরা রোধে:
মটরদানার মতো গুটি হলে
প্লানোফিক্স → ১ মিলি / ৪.৫ লিটার পানি
অথবা
ফ্লোরা → ২ মিলি / লিটার পানি
স্প্রে করুন

👉মুকুল আনার জন্য:
প্যাক্লোবুট্রাজল (PBZ) যেমন বলবান, আজনা
মাত্রা: ৪ গ্রাম / লিটার পানি
প্রয়োগ: পূর্ণবয়স্ক গাছে

আমের সংরক্ষণ পদ্ধতি (সংক্ষিপ্ত)

👉আম সংগ্রহের পর পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিতে হবে
👉পচা, আঘাতপ্রাপ্ত ও রোগাক্রান্ত আম আলাদা করতে হবে
👉রোদে না রেখে ছায়ায় শুকাতে হবে
👉আকার ও ওজন অনুযায়ী গ্রেডিং করতে হবে
👉কার্টন/ঝুড়ি/প্লাস্টিক ক্রেটে সংরক্ষণ করা ভালো
👉২০–২৫°C তাপমাত্রায় ৭–১০ দিন ভালো থাকে
👉১২–১৩°C ও ৮৫–৯০% আর্দ্রতায় ২–৩ সপ্তাহ রাখা যায়
👉১০°C এর নিচে রাখা যাবে না (চিলিং ইনজুরি হয়)
👉ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার নিষিদ্ধ
👉ইথিলিন চেম্বার বা প্রাকৃতিকভাবে পাকানো নিরাপদ

You may also like

1 of 6